মেষপালক
অ্যাকাডেমিয়া

লখনৌ থেকে মেটিয়াবুরুজ: ঠুমরির বাংলা অধ্যায়

সূর্য ডুবে গেলেও পশ্চিম আকাশের রং যেমন সহজে মিলিয়ে যায় না, ঠুমরিও তেমনই। দরবার ভেঙেছে, তার বিষণ্ন গৌরব আজও শ্রোতার মনে লেগে আছে।

অনুরুদ্ধ গোস্বামী

১০ মিনিটে পড়া

লখনৌ থেকে মেটিয়াবুরুজ: ঠুমরির বাংলা অধ্যায়

‘কা করুঁ সজনী, আয়ে না বালম’—বড়ে গুলাম আলি খানের কণ্ঠে এই ঠুমরি শুনলে মনে হয়, বিরহেরও বুঝি নিজস্ব ভাষা আছে। সুরের ঢেউয়ে ঢেউয়ে সেখানে ধরা পড়ে মনের আকুলতা। কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘সুরে ও বাণীর মালা দিয়ে’ কিংবা বেগম আখতারের কণ্ঠে ‘জোছনা করেছে আড়ি’র মতো ঠুমরি-অঙ্গের বাংলা গানে সেই একই অপেক্ষা আর অভিমান ফিরে আসে নতুন কথায় আর নতুন সুরে।

উত্তর ভারতের দরবারি পরিমণ্ডলে বিকশিত ‘ঠুমরি’ বাংলায় এসে নিজের জায়গা করে নিল কীভাবে? ঠুমরির সুর ধরে ইতিহাসের সেই পথেই এগোনো যাক।

ধ্রুপদের গাম্ভীর্য আর খেয়ালের কারুকাজের পাশে ঠুমরি একটু অন্যরকম। এর কথা প্রেমের, ভঙ্গি নাচের, আর সুর রাগের নিয়ম মেনেও প্রায়ই নিয়ম ছাড়িয়ে যায়। নামের বানান নিয়েও দ্বিধা আছে: বাংলা বইয়ে কোথাও ‘ঠুংরি’, কোথাও ‘ঠুমরি’। বানানের চেয়ে জরুরি হলো এর ইতিহাসের স্তরগুলো আলাদা করে দেখা, কারণ ‘ঠুমরি’ বলতে কখনো বোঝানো হয়েছে গানের আঙ্গিক, কখনো রাগিণীর নাম, আবার বাংলার পুরোনো সংগীত-আলোচনায় কখনো একটি তাল।

সংগীত গবেষক ম. ন. মুস্তাফা ‘আমাদের সঙ্গীত ইতিহাসের আলোকে’ বইয়ে দেখিয়েছেন, ঠুমরির উত্থান মোগল সাম্রাজ্যের ভাঙনের পটভূমিতে। আঠারো শতকের শেষ ভাগে দিল্লির শক্তি দুর্বল হলে সংগীতজ্ঞরা আশ্রয় নেন বিভিন্ন প্রদেশের ছোট রাজসভায়, আর শাসকের রুচি অনুযায়ী সেখানে আলাদা সংগীতধারা গড়ে ওঠে। রাগের কড়া নিয়মে বাঁধা গানের জায়গায় বাড়ে লঘু ও ভাবপ্রধান গানের চাহিদা। ঠুমরি সেই যুগেরই ফল।

নামটির উৎস নিয়ে অবশ্য কিছুটা মিল পাওয়া যায়। মুস্তাফা, সংগীতবিষয়ক গ্রন্থকার প্রভাত কুমার গোস্বামী আর এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জি. ডি. কারওয়াল—তিনজনের লেখাতেই ‘ঠমক’ থেকে নামের উৎপত্তির কথা পাওয়া যায়। কারওয়ালের ব্যাখ্যায় ‘ঠুমাক’ মানে পায়ের সুন্দর আঘাত; তার মতে এ গান শুরুতে ছিল নাচের সঙ্গী, যার কাজ নাচের ভঙ্গি স্পষ্ট করা। প্রভাত কুমার ‘ভারতীয় সঙ্গীতের কথা’ বইয়ে লিখেছেন, এই মতের সমর্থন মেলে কথক ঘরানার কাজে। তার বইয়ে আরও দুটি মত আছে: চৈতি-কাজরির মতো লোকগান উচ্চাঙ্গ আসরে উঠে ঠুমরি হয়েছে, অথবা প্রথম ধাপ ছিল দাঁড়িয়ে গাওয়া বাঈজিদের ‘খাড়ী ঠুমরী’। তবে কোনো একটি মতকেই চূড়ান্ত বলার মতো সর্বসম্মত তথ্য নেই।

ঠুমরি গানের জনক কে, সে প্রশ্নেও লেখকদের মধ্যে ঐকমত্য নেই। কৃষ্ণধন বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৮৫ সালে ‘গীতসূত্রসার’-এ লিখেছেন, “অনেকের বিশ্বাস শোরী মিঞার টপ্পা ছোট করে নিতেই ঠুমরির জন্ম।” মণিলাল সেন শর্মা গীত উপক্রমণিকা-য় লিখেছেন, “লক্ষ্ণৌ নগরে ঠুমরি গানের সৃষ্টি হইয়াছে, আর নবাব ওয়াজেদ আলী শাহ প্রথম এ গান বানিয়েছেন।” কারওয়াল অতটা বলেননি; তার মতে নবাবের আমলে গানটি লালিত হয়েছে এবং লখনৌ ছাড়িয়ে বেনারস, এলাহাবাদ ও পাটনায় কেন্দ্র গড়েছে। দিলীপকুমার রায় ১৯৩৮ সালে ‘সাঙ্গীতিকী’-তে লিখেছেন, “ঠুমরির ধারা কোন প্রতিভার শিখর থেকে নেমেছিল তা নিশ্চিত করে জানা যায় না। কোনো সংগীতধারা সাধারণত একজনের হাতে এক দিনে গড়ে ওঠে না।”

বাংলায় ঠুমরির আগমনের গল্প অবশ্য আলাদা। এখানে এর প্রথম পরিচয় অনেক সময় গান হিসেবে নয়, তাল হিসেবে। সংগীতজ্ঞ ও রবীন্দ্রসংগীত গবেষক শান্তিদেব ঘোষ ‘রবীন্দ্রসঙ্গীত বিচিত্রা’-য় দেখিয়েছেন, রামনিধি গুপ্তের ‘গীতরত্ন’-এ ঠুমরি তালের গান আছে, কিন্তু ঠুমরি নামের রাগিণীর গান নেই। দাশরথি রায় পাঁচালিতে ঠুমরিকে কেবল তাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন। ১৮৪৩ সালের ‘রাগকল্পদ্রুম’-এ ঠুমরি তালে বাঁধা বহু গান আছে, কিন্তু তালটির ব্যাখ্যা নেই। অন্যদিকে রাধামোহন সেনের ‘সঙ্গীত তরঙ্গ’-এ ঠুমরি একটি রাগিণী, আর ক্ষেত্রমোহন গোস্বামী ‘সঙ্গীতসার’-এ একে টপ্পার শাখা ধরেছেন। কৃষ্ণধনের মতে এটি কাওয়ালির প্রকারভেদ, আর এক কলিতে দুই-তিন রাগের মিশেলকে বলে ‘জংলা’, যে কারণে গোঁড়া ওস্তাদরা এই মিশেল ভালো চোখে দেখতেন না। সংগীত পরিক্রমা-র ভাষ্য, সম্ভবত প্রথমে ঠুমরি তালে গাওয়া গানকেই ‘ঠুমরি’ বলা হতো, যেমন আজ দাদরা তালের গানকে ‘দাদরা’ বলা হয়।

ঠুমরি তালের চেহারা নিয়েও পুরনো বইয়ের বর্ণনা এক নয়। শান্তিদেব এর চারটি আলাদা রূপ তুলে ধরেছেন: কোনো মতে চার মাত্রা, কোনো মতে আট মাত্রা, আর ফাঁক-তালির জায়গা ও ঠেকাও বইভেদে আলাদা। তাই ‘ঠুমরি তাল’ নামে সর্বত্র অভিন্ন একটি ছক ছিল, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। আবার ঠুমরি তাল আর ঠুমরি গানের আঙ্গিকও এক জিনিস নয়।

ঠুমরির ইতিহাসে বাংলার সবচেয়ে বড় অধ্যায় ১৮৫৬ সালের ঘটনা। প্রভাত কুমার লিখেছেন, “ওয়াজেদ আলী শাহ ১৮৪৭ সালে অযোধ্যার সিংহাসনে বসেন। কুশাসনের অভিযোগ এনে ১৮৫৬ সালে ব্রিটিশরা তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং বার্ষিক ১২ লক্ষ টাকা বৃত্তি দিয়ে কলকাতার মেটিয়াবুরুজে নির্বাসনে পাঠায়। নির্বাসনের প্রায় দুই বছর পর নবাব সেখানে আবার দরবার বসান, যা চলেছিল প্রায় ত্রিশ বছর, ১৮৮৭ সালে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত।”

সেই দরবারের গুণীদের মধ্যে ছিলেন গোয়ালিয়রের আলিবক্স ও তাজ খাঁ, লখনৌর আহম্মদ খাঁ, পাঞ্জাবের মুবারক আলি খাঁ, রামপুরের সাদিক আলি খাঁ, কথক নৃত্যশিল্পী কালকা দীন ও বৃন্দাদীন, আর বাঙালিদের মধ্যে যদুভট্ট, কেশবচন্দ্র মিত্র, কালীপ্রসন্ন ও বামাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। নবাব নিজেও সুগায়ক ছিলেন এবং ‘আখতার পিয়া’ ছদ্মনামে গান লিখতেন; ‘বাবুল মোরা নইহার ছুটো যায়’ তার নামেই পরিচিত। মুস্তাফা লিখেছেন, “সাদিক আলি ঠুমরিকে সাধারণ শ্রোতার আসর থেকে তুলে ব্যাকরণের নিয়মে সাজিয়ে রাজসভার উপযোগী করেন, পরে মৈজুদ্দিন খাঁ গাওয়ার নতুন পদ্ধতি চালু করেন।”

দিলীপকুমার রায়ের লেখায় এই দরবারের ছাপ আছে। তিনি লিখেছেন, নবাবের একশো দশজন সভাগায়ক-গায়িকার অনেকেই ঠুমরি চর্চা করতেন, আর ‘লক্ষ্ণৌ ঠুমরি’ তালও এই সূত্রে বিখ্যাত হয়। তাঁর গুরু বামাচরণের কাছে তিনি শুনেছেন, আলিবক্সের ঘরে পর্দার আড়ালে নারীকণ্ঠে অপূর্ব ঠুমরি শোনা যেত; তবে এটি স্মৃতিনির্ভর বিবরণ, সমকালীন নথি নয়। প্রভাত কুমারের বিবরণে, খেয়ালিয়ারা আলাপ-তানের কারুকাজে এতটাই মেতেছিলেন যে গানে কাব্যভাব মিলিয়ে যাচ্ছিল, আর সেটা দেখেই নবাব ঠুমরিকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। খেয়ালিয়াদের মহলে এই স্বাধীনতা সমাদর না পেলেও যাত্রা থামেনি। কলকাতার সংগীতসমাজে ঠুমরির চল হওয়ার পেছনে নবাবের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

শান্তিদেব আরও একটি যোগাযোগের কথা বলেছেন। নবাবের ‘যব ছোড় চলে লখনৌ নগরী’ গানের আদলে গোবিন্দচন্দ্র রায় হিন্দুমেলার জন্য লিখেছিলেন ‘কত কাল পরে বল ভারত রে’, খাম্বাজ রাগিণী ও ঠুমরি তালে বাঁধা সেই বিখ্যাত জাতীয় সংগীত। রবীন্দ্রনাথ চিরকুমার সভা নাটকে এর অনুকরণে লিখেছিলেন ‘কত কাল রবে বল ভারত রে’। শান্তিদেবের ধারণা, এই দুই গানের ঝোঁক সংস্কৃত ‘তোটক’ ছন্দের মতো, আর সেখান থেকেই ঠুমরি তালের জন্ম হয়ে থাকতে পারে। তবে বলে রাখা ভালো, এটি অনুমান, প্রতিষ্ঠিত সত্য নয়।

বিশ শতকের গোড়ায় কলকাতায় ঠুমরির আরেক পর্ব শুরু হয়। গোয়ালিয়র রাজপরিবারের সন্তান গণপত রাও (১৮৫২–১৯২০), ওরফে ভাইয়া সাহেব, লখনৌর ওস্তাদদের কাছে ঠুমরি শিখে একে নতুন রূপ দেন। তার শিষ্য মৈজুদ্দিন খাঁ, শ্যামলাল ক্ষেত্রী আর গিরিজাশঙ্কর চক্রবর্তী সেই রীতি জনপ্রিয় করেন। বেনারসে মৈজুদ্দিনের গান শুনে মুগ্ধ শ্যামলাল তাকে কলকাতায় আনেন। দিলীপকুমার লিখেছেন, “মৈজুদ্দিনের কাছে ঠুমরি শেখেননি এমন বড় বাঈ বোধ হয় ছিলেন না।” ধূর্জটিপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের লেখা থেকে শান্তিদেব তুলে ধরেছেন, হ্যারিসন রোডে শ্যামলালের বাড়ির আসরেই আধুনিক ‘লচাও ঠুমরি’র জন্ম। সেখানে গিরিজাবাবু ও অমিয় সান্যালসহ আরও অনেকে আসতেন।

গিরিজাশঙ্কর প্রথমে ধ্রুপদ-খেয়াল শিখেছিলেন; পরে উর্দু শিখে ঠুমরিতে চমৎকার উচ্চারণ আয়ত্ত করেন। প্রভাত কুমারের কথায়, “বাংলা ঠুমরির আজকের চেহারার মূলে তাঁর প্রভাব।” ঘরানার ভাগও এ সময় স্পষ্ট হয়: লখনৌ ও বেনারসের ‘পূর্বী ঠুমরি’ ধীর চালের, আর পাঞ্জাবি বা ‘লচাও’ ঠুমরির অলংকার আরও মিহি। বেনারসের ধারায় চৈতি-কাজরির প্রভাবের কথা মুস্তাফাও লিখেছেন।

প্রভাত কুমারের মতে, খেয়াল রাগপ্রবণ হলে ঠুমরি ভাবপ্রবণ; রাগের শুদ্ধতা রক্ষা এর লক্ষ্য নয়। খাম্বাজ, তিলক কামোদ, দেশ, বেহাগ, ঝিঁঝিট, পিলু ও ভৈরবীর মতো রাগে এর চল বেশি, আর তালে দীপচন্দী, দাদরা ও ত্রিতাল। ‘সংগীত পরিক্রমা’-র বর্ণনায় ঠুমরিতে মীড়-মূর্ছনা বেশি, গমক প্রায় নেই। বইটি একে দুই ভাগ করেছে: ওস্তাদি ঠুমরি বিলম্বিত লয় ও খেয়াল-টপ্পার অলংকারে ভরা, বাঈজি ঠুমরি দ্রুত লয়ে অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে ভাব প্রকাশ করে। কারওয়ালের শ্রেণিবিভাগে আছে বিলম্বিত লয়ের ‘বড়ি ঠুমরি’ আর দ্রুত লয়ের ‘ছোটি ঠুমরি’। এসব শ্রেণিবিভাগ লেখকদের ব্যাখ্যা, সব শিল্পীর পরিবেশনায় একইভাবে খাটে না।

ঠাকুরবাড়ির সংগীতচর্চাতেও ঠুমরির প্রথম পরিচয় তাল হিসেবে। দ্বিজেন্দ্রনাথের ‘কর তাঁর নাম গান’ ঝিঁঝিট রাগিণী ও ঠুমরি তালে বাঁধা, সত্যেন্দ্রনাথের কয়েকটি ব্রহ্মসংগীত তাই। জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ১২৯৮ সালের এক লেখায় বলেছেন, ঠুমরিতে নিয়মিত অন্তরে গুরুমাত্রা আসে বলে কাওয়ালির চেয়ে এতে ঝোঁক বেশি পড়ে। রবীন্দ্রনাথের প্রথম দিকের গানে ঠুমরি রাগিণী নেই, কিন্তু ঠুমরি তালের গান আছে; ১৯৩১ সালের ৯ মে ইন্দিরা দেবীকে লেখা চিঠিতে তিনি ঠুমরিকে নিজের ব্যবহৃত তালের তালিকায় রেখেছেন। শান্তিদেবের বিচারে ‘গানগুলি মোর শৈবালেরি দল’, ‘এসো নীপবনে ছায়াবীথি তলে’ ও ‘ওরে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল’ আসলে ঠুমরি তালের। অথচ স্বরলিপিতে এসব গানের তাল কাহারবা লেখা। অর্থাৎ ঠুমরি তালের পরিচয়টি সেই অর্থে স্বরলিপিতে নেই।

তাই ঠুমরির ইতিহাসকে কোনো একটি উৎস বা একজন স্রষ্টার মধ্যে বেঁধে ফেলা যায় না। দরবারের সংগীত, নাচের ভঙ্গি, লোকগানের সুর, নানা অঞ্চলের গায়নরীতি আর শিল্পীদের নিজস্ব উদ্ভাবন, সবই এর স্রোতে এসে মিশেছে। লখনৌর নবাবি আসর আর মেটিয়াবুরুজের দরবার সেই স্রোতের দুটি বড় বাঁক, কিন্তু পুরো যাত্রাকে সেখানেই আটকে রাখা যায় না। দিলীপকুমার রায় সহজ কথায় বলেছেন, “ঠুমরির কোনো মার্কা-মারা চরিত্র নেই; তাঁর কাছে ধ্রুপদ কঠিন, খেয়াল তরল আর ঠুমরি বায়বীয়, তাই এর ঢং ভজন, কীর্তন, গজল ও খেয়ালের ভেতরে অনায়াসে ঢুকে পড়ে।”

মুস্তাফা উদ্ধৃত করেছেন এক লেখকের উপমা, যিনি ঠুমরির অবক্ষয়কে বলেছেন ‘সূর্যাস্তের বিষণ্নতার মতোই গৌরবোজ্জ্বল’। সূর্য ডুবে গেলেও পশ্চিম আকাশের রং যেমন সহজে মিলিয়ে যায় না, ঠুমরিও তেমনই। দরবার ভেঙেছে, আসর বদলেছে, তবু যে সুরে একদিন বিরহ কথা বলে উঠেছিল, তার বিষণ্ন গৌরব আজও শ্রোতার মনে লেগে আছে।

তথ্যসূত্র

১. ম. ন. মুস্তাফা, আমাদের সঙ্গীত ইতিহাসের আলোকে। ২. প্রভাত কুমার গোস্বামী, ভারতীয় সঙ্গীতের কথা। ৩. শান্তিদেব ঘোষ, রবীন্দ্রসঙ্গীত বিচিত্রা। ৪. দিলীপকুমার রায়, সাঙ্গীতিকী (১৯৩৮)। ৫. কৃষ্ণধন বন্দ্যোপাধ্যায়, গীতসূত্রসার (১৮৮৫)। ৬. অবধূত, টপ্পা ঠুংরি সেপ্টেম্বর, ১৯৬১ ৭. ক্ষেত্রমোহন গোস্বামী, সঙ্গীতসার (১৮৬৯)।

ধরন ও বিষয়:
  • ইতিহাস
  • গান
  • সংগীত
  • ঠুমরি
  • ধ্রুপদী সংগীত
  • মেষপালক

লেখাটি কেমন লাগল?

  • ০টি ভালোবাসা
  • এখনও কোনো রেটিং নেই

অনুরুদ্ধ গোস্বামী

লেখক

অনুরুদ্ধ গোস্বামী

সংগীত প্রশিক্ষক ও গবেষক

জন্ম ও বেড়ে ওঠা পাবনা শহরে। স্কুল-কলেজের পাঠ সেখানেই। পড়াশোনা করেছেন অর্থনীতি বিষয়ে।

মন্তব্য

মন্তব্য লোড হচ্ছে…