যে রাত প্রেমিকার চুম্বনে কলিজা রক্তাক্ত হয়
মিনহাজুল হকের এক থোকা কবিতা
২ মিনিটে পড়া

১.
আন্তঃনগর অন্ধকার
তিমিরে মুখোমুখি হয়ে আন্তঃনগর;
যে মানচিত্রের পায়ে ঠোকর দিচ্ছে
সেখানে মৃত্যুগামী জাহাজ
ধীরে ধীরে ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।
তবু নেই সংকটের প্রশ্ন কিংবা
বিক্ষত হৃদয়ের বিমূর্ত দাগ
যদি আরও কিছু অন্ধকার তল্লাটে বসে
তবে এইসব গন্তব্য আবারও
গাভীগর্বে ফিরে যেতে থাকবে
হয়তো তখন কোনো মানচিত্রই থাকবে না!
২.
কুমির ও বিকল জোছনার রাত
ঘুমের ভেতর আঁকড়ে ধরে কুমির
এখন কি তার খেলার বয়স?
এখনো নদী দেখলে মা বলে পাশে বসি
কুমির কি চেনে আমার মায়ের আঁচল?
কিংবা তার গন্ধ?
স্মৃতি ও বিস্মৃতির আড়ালে ফুঁড়ে ওঠে
রক্তের বুদবুদ আর বিকল জোছনা
পায়ের পাতার দিকে তাকালেই
ফেলে রাখা শেভিংব্লেডের ছাপ
আর কতদূর হেঁটে গেলে নদী?
৩.
বর্ষা থেমে যায় চুল্লির আগ্রহে
এখনো কি আছে বর্ষার রাত
যে রাত প্রেমিকার চুম্বনে কলিজা রক্তাক্ত হয়
দেহ থেকে দেহের ভেতর লুকিয়ে পড়ে
বিবর্ণ শ্মশান, ঘুম ও মৌবহর...
হিংস্র দাঁতের নিচে শুয়ে আছে যৌবন
শত শত চুল্লির ঘরে কেবল এই দুঃসাহস
তবু কেন এই চুম্বন নামের প্রবাহ
কেন ঢেউয়ের ঘরে বাসর ভাঙে নিত্য নিত্য...
এই ঘন আগরের গন্ধে
প্রেম ও বিচ্ছেদের সেমিনারে
বর্ষা কেবলই বর্ষা নয়
নামহীন অথবা পুরুষের ছায়াঘর!
৪.
বায়োগ্রাফি ডুবে যাচ্ছে এথিকসে
নৈশপ্রহরী জানে না বিপ্লবের স্লোগান
একটা অজগর হাতে নিয়ে লম্বা রাত;
বহুতল ভবনের জানালায় ম্যাজিক শো দেখাচ্ছে
বায়োগ্রাফির ছক নিয়ে বসে থাকা বিড়াল
বারবার ইঙ্গিত দেয় প্রশ্নের দিকে
কখনো প্রশ্নের ঢেকুর তুলে নিজস্ব এথিকসে
কখনো হারিয়ে যায় মুহ্যমান শৈলীর ভেতর!
উন্মাদনার কেচ্ছা সমগ্র হাতে
প্রহরীর দুটি চোখ মধ্যাকাশে বেড়াতে যাচ্ছে
অন ডিউটিতে হাইফেন কখনো সানফ্লাওয়ার
৫.
জীবনবিভ্রম
হরিণ ঠেকানোর দিনে যতটুকু দাঁড়িয়ে ছিলাম
এখন এইসব মনে করতেই দেখি বিবস্ত্র তিতাস
এহেন গান, বুকভার ঢেউ অথবা জীবনবিভ্রম
কোথায় যে হারিয়ে গেছে মহামালতীর চাঁদ!
উদ্ভট হাত দুটি নেমে যায় ফড়িং খেলার বনে
বিবাগী রাতের দোহাই ঘরে ফিরে না কস্তুরী;
বায়ুর কাছাকাছি অসীম বুদবুদ উসকে দেয়
ভুলে যাওয়া সন্তরণ, মৃত্যুর গালে একঝাঁক চুমু।
- কবিতা
- মেষপালক
লেখাটি কেমন লাগল?
- ০টি ভালোবাসা
- এখনও কোনো রেটিং নেই

লেখক
কবি
জন্ম ২৩ মে ২০০০ সালে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলার তিতাস নদীতীরবর্তী খড়মপুর গ্রামে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তার প্রকাশিত কবিতাবইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘যতটুকু দাঁড়িয়েছি’ (২০২৪), ‘হরিণ ঠেকানোর দিন’ (২০২৫) এবং বাংলা একাডেমি আয়োজিত ‘লেখক কর্মশালা ও প্রকাশনা উৎসব’ থেকে প্রকাশিত ‘বায়ু ও বালির সিনেমাটোগ্রাফি’ (২০২৬)।



মন্তব্য
মন্তব্য লোড হচ্ছে…