মেষপালক
কবিতা

পিঞ্জিরার পাখির অভিমান শুনতে শুনতে

মঈন ফারুকের এক থোকা কবিতা

মঈন ফারুক

৩ মিনিটে পড়া

পিঞ্জিরার পাখির অভিমান শুনতে শুনতে

১

খুঁজে পাইনি বলে

মনের ভেতর এতটাই ঢুকেছি

চেহারার ভুল ইশারা দেখা হয়নি।

মুগ্ধতা যে চরম শত্রু হতে পারে

তা বুঝেছি গোলাপ তুলতে গিয়ে,

অনেক পরে।

তারপর ফিরে এসেছি

ক্রমে নেমে যাওয়া সিঁড়ি হয়ে— সেই শুরুতে।

ততদিনে

আয়ুর দ্বিতীয় শৈশব শুরু হয়ে গেছে,

আরাধ্য সেই আমিও নেই।

২

হিসাব

হিসাব রহিত করতে

চাঁদটাকে মুছে দাও

রাতটাকে মুছে দাও।

অপয়া দিনটাকে দুমড়ে-মুচড়ে ফেলে দাও

সময় পৌঁছে যাক প্রবল বেগে

সময়েরই শেষ প্রান্তে।

আয়ুর প্রয়োজন মানুষ কেন মেটাতে যাবে?

৩

দুঃখপুরাণ

বুকের ভেতর

ঠোঁটের মতো লম্বা-চেরা ক্ষতে

রক্তরঙের শব্দের ঢেউ

ডলফিনের মতো সাঁতার কাটে।

—এ কৈছালি প্রকাশ করা কার পক্ষে সম্ভব!

হাঁসের হিস-হিস স্বরে কান

মনের কাছে বলে—

কলহরত এত-এত জিজ্ঞাসার ভার

তুমি কার জন্য জিইয়ে রাখছো?

চাপা পড়ে থাকা অগণিত বিবাদ

কখনো পায় না শরীর,

তার ভেতর মানুষ রুদ্ধশ্বাসে বাঁচে।

মনের শক্তিতে কেউ মাকড়সার

জালও ছিঁড়তে পারে না; গণ্ডেরা

কি করে তবু আশার চাবুক এগিয়ে দেয়!

বন্দীবাসে চোখে কুড়োর পরত, বুকে ক্ষত;

অবিদ্যমান শুচিবোধ অপজ্ঞানে টানবে কত?

৪

পিঞ্জিরার পাখি

পিঞ্জিরায় পাখির নানা অভিমান শুনে

খুঁজে খুঁজে নিজের কথাকে দিয়েছি প্রাণ

যখন ব্যথা ফেটে পড়ে তখন বেজে ওঠে

স্তব্ধ নীরবতাকে ভেঙে চুর-চুর করা গান।

তার ভেতর ভাসে— কবেকার সে পুরাণ

আফিমের মতো টানে ঘুরপাক খায়,

সেখানে মৌন স্মৃতির পুথি আঁকানো ছবির মতো

পাটিপাতার আলপনায়।

ভেতরে শুনি— কপটেরা আলোর মুকুটে

দম্ভ লুটিয়ে নিরালায় কাটে সেতারের তার,

তা দেখে নেভানো কুপির পাশে বসে কেউ

হাসে, তাচ্ছিল্যে ফিরে ভ্রূকুটি করে কার!

তার আক্ষেপ দেখে অভিযোগে ফেটে

মরমি সুরে বেজে বেজে ওঠে ব্যথার দান

যখন ব্যথা ফেটে পড়ে তখন বেজে ওঠে

স্তব্ধ নীরবতাকে ভেঙে চুর-চুর করা গান।

৫

মনের কোটরে সবাই ডাকে

মনের কোটরে জায়গা দেয় কতোজন

তাতে আবাসন হয় না—

সবাই জানে ভাড়াটিয়া কালবেলা।

ভাসমান গৃহ, কেউ কেউ জানে—

পইথান-শিথান জানে না।

খেয়ালের এত-এত প্রীতিকথা

কেবলই দায়ভার হয়ে থাকে—

কারোই জানা নেই

কোথায় রাত, ভোর হবে কবে?

একটি নদী, একটি বন, আর

আবাদের ভূমি নিয়ে

পাড়ি দিতে বের হয়ে পৃথিবীর কোথাও

আবাস মেলে না—

মনের কোটরে সবাই ডাকে।

ধরন ও বিষয়:
  • কবিতা
  • মেষপালক

লেখাটি কেমন লাগল?

  • ০টি ভালোবাসা
  • এখনও কোনো রেটিং নেই

মঈন ফারুক

লেখক

মঈন ফারুক

কবি

জন্ম ১৭ অগাস্ট ১৯৮৩। দক্ষিণ ইদিলপুর, সীতাকুণ্ডু, চট্টগ্রাম। প্রকাশিত কবিতার বই ‘কে যেন আছে’ (২০১৯), ‘এ শহরের মানুষ হাঁটে না রাস্তা হাঁটে’ (২০১৮), ‘অশ্রু গোলাপজলের মতোই সুঘ্রাণ’ (২০১৭), ‘বৈরী হাওয়া’ (২০০৯) ও ‘সাদা ফুলদানি’ (২০০৭)। জীবনীবই ‘ক্ষণজন্মা কিংবদন্তী: জ্যঁ নিকোলাস আর্তুর র‍্যাবো’ (২০১৯)। সম্পাদনা করেছেন শিশুতোষ পত্রিকা ‘অঙ্গীকার’ ও লিটলম্যাগ ‘চন্দ্রবিন্দু’। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘চন্দ্রবিন্দু’র স্বত্বাধিকারী।

মন্তব্য

মন্তব্য লোড হচ্ছে…