অন্তরের ঘড়ি সারাইয়ের দোকান
টিক-টিক শব্দটা আবার হাঁটতে শুরু করে/ থেমে থাকা একটি চাকা অনন্তকালের দিকে গড়াতে থাকে।
২ মিনিটে পড়া

১.
অন্তর এখন আর চাঁদ দেখে সময় মাপে না,
পুরনো দেয়ালঘড়ির কাঁটা দেখে মাপে।
একটি টেবিল, তার ওপর ছড়ানো
মৃত সময়ের কঙ্কাল
স্প্রিং, ডায়াল, ছোট ছোট স্ক্রু।
বাইরে হেমন্তের রোদ, ভেতরে তার
নিঃশব্দ কারখানা চলছে।
২.
অন্তরের আঙুলে একটি চিমটা, কাচের ওপর
ঝুঁকে আছে।
চিমটার ডগায় আটকে থাকা সেকেন্ড- কাঁপছে
পার হতে পারছে না।
৩.
সে আলতো করে টোকা দেয়,
আলো জ্বলে ওঠে না, সময় জ্বলে ওঠে।
টিক-টিক শব্দটা আবার হাঁটতে শুরু করে
থেমে থাকা একটি চাকা
অনন্তকালের দিকে গড়াতে থাকে।
অন্তর স্থির হয়ে বসে দেখে-
যা থেমে ছিল, আর যা চলছে, দুটোর ভেতর
কোনো তফাৎ নেই।
৪.
বাইরে বাচ্চারা স্কুলের স্লেট ভাঙছে, জোড়া দিচ্ছে।
তাদের হাসির শব্দে
দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে না,
বরং আরও শক্ত হচ্ছে।
ঘড়ির কাচে অন্তরের নিজের মুখ-
ঝাপসা, কিন্তু স্পষ্ট।
৫.
সন্ধ্যা নামছে। দোকানের ঝাঁপি অর্ধেক নামানো।
বাতাসে আর ধুলো নেই, আছে পুরনো তেলের গন্ধ।
জীবিত ঘড়িগুলো একসঙ্গে বেজে উঠছে-
ভিন্ন সময়ে, ভিন্ন সুরে
তবু একই গান।
অন্তর চশমা খুলে রাখে,
টেবিলের ওপর।
তার চোখের সোজা রেখা বরাবর
সব ক্লান্তি
পুরনো তেলের মতো ঝরে যায়।
- কবিতা
লেখাটি কেমন লাগল?
- ০টি ভালোবাসা
- এখনও কোনো রেটিং নেই

লেখক
কবি
জন্ম পহেলা সেপ্টেম্বর ১৯৭০, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার সোনাপাড়ায়। প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১৮। এর মধ্যে ১৫টি কবিতার বই এবং ৩টি অন্যান্য। সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ১৯৯৭ সালে বাংলা একাডেমি তরুণ লেখক প্রকল্প পুরস্কার, ১৪২১ বঙ্গাব্দে পশ্চিমবঙ্গের ‘দ্বৈপায়ন সম্মাননা’, ১৪২৩ বঙ্গাব্দে কলকাতার ‘ইতিকথা মৈত্রী সম্মাননা’, ২০২১ সালে ‘লেখমালা সম্মাননা’ এবং ২০২৫ সালে ‘বগুড়া লেখকচক্র পুরস্কার’ পেয়েছেন।



মন্তব্য
মন্তব্য লোড হচ্ছে…