নিমজ্জিত হবো চলো জীবন ভাসানে
চামেলী বসুর এক থোকা কবিতা
২ মিনিটে পড়া

১
এখানে এসো তুমি
এই তো এখানে, এই সবুজ সজন ঢেউয়ে
দোল খেতে খেতে নিশ্চিত ঘুম যায় নিষ্ফলা রাত
কুয়াশার ধুলো উড়ে, হাওয়ায় ভেসে যায়
নীলকুঠি সাহেবের মাথাহীন ঘোড়া-
এসব গল্প থেকে ঝরে পড়া আহ্লাদ নিয়ে
তুমি এসো সীতারাম, তুমি এসো ফিরে;
নৌকার পাটাতনে মেরো সজোর কুঠার— নিমজ্জিত হবো চলো জীবন ভাসানে।
২
কচ্ছপ
বেঁচে থাকার জন্য
যতটুকু নির্মোক প্রয়োজন
তার সবটুকুই প্রলম্বিত দেহের মাপে জড়িয়ে আবহমান হেঁটে চলা—
ব্যক্তিগত সীমানা ডিঙাতে
খোলসের চারপাশে গড়ে ওঠে রিপুর দেওয়াল— ভঙ্গুর লড়াই যেন জীবন-মরণে!
যে ঘাটায় কেনা-বেচা হয় জগৎ সংসার;
ইহকাল থেকে পরকাল—
তার কাছে এসে দাঁড়াই নতজানু
বেঁচে থাকার জন্য যার নেই ভণিতা, নেই আয়োজন;
নামহীন, শঙ্কাহীন, বর্মবিহীন এক ঘাসফুল নিশ্চিন্তে আঁকড়ে বাঁচে মাটির নাভীমূল!
৩
জীবনস্ফীতি
শরীরের স্বাদ নিয়ে চলে যাবে? যাও—
ঊষর ভূষর থেকে ধুলোমাখা রোদ গায়ে মেখে- কতবার মরে বলো জেগে উঠি রোজ!
নিশাচর
ক্লান্ত-তৃপ্ত-আহ্লাদিত প্রৌঢ় বাসনায়
খাবি খেতে খেতে
উড়াও আকাশে যতো সাদাভ কুয়াশা।
কৃত্রিম চোখ
শব্দের ঘোর
এই সব ফেলে
রাতের শিয়রে এসে জড়ো হয় রক্তিম দিন
তবুও জীবন বাড়ন্ত লাগে, লাগে প্রাচুর্যবিহীন!
৪
বিরহ
আর একবার ঠোঁটে রেখো ঠোঁট
বুকের পাঁজর ভেঙে রেখো বুকে
তারপর এ জীবন অন্তর্জলি হোক বিরহ সলিলে
বিরহে তোমার মুখ আগুনের মতো জ্বলে!
৫
অত কিছু চাইনি যুবক
অত কিছু চাইনি যুবক
চেয়েছি তোমায় শুধু
চেয়েছি ওই ধারালো ঠোঁটের পাশে
এ ঠোঁটের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হোক!
অত কিছু চাইনি যুবক
চেয়েছি তোমায় শুধু
চেয়েছি এক ফালি চাঁদ আর ওই প্রশস্ত বুকে
মুখ লুকাবার রুপালি অসুখ!
অত কিছু চাইনি যুবক
চেয়েছি তোমায় শুধু
চেয়েছি উষ্ণ স্পর্শ তোমার
মৃত্যু এলে দেহে; চিতার আগুনে
কাঠ-কয়লায় লিখে রাখার মতো কিছু শোক!
- কবিতা
- কবি
লেখাটি কেমন লাগল?
- ০টি ভালোবাসা
- এখনও কোনো রেটিং নেই

লেখক
কবি
পড়াশোনা করেছেন বাংলা সাহিত্যে, ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে। প্রথম কবিতাবই ‘বিরান মুখের মায়া’ প্রকাশিত হয় ২০১৮ সালে বেহুলা বাংলা প্রকাশন থেকে। দ্বিতীয় কবিতাবই ‘নীল পালকের ছুরি’ ২০২৫ সালে প্রকাশ করেছে সাহস পাবলিকেশন।



মন্তব্য
মন্তব্য লোড হচ্ছে…